শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১১

আবোল-তাবোল ভাবনা

(এই লেখাটি শুধুমাত্র 'চতুর্মাত্রিক'-এর জন্য লেখা)

আমি গত এক সপ্তাহ যাবত একটু ব্যস্ত ছিলাম, বাসা বদল নিয়ে। আমার স্ত্রী নিপসম (NIPSOM)-এ MPH কোর্সে ভর্তি হয়েছে, তাই সিরাজগঞ্জ থেকে মালপত্র নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছে, এই ব্যস্ততার জন্য ব্লগেও লগিন করতে পারি নি, দৈনিক খবরের কাগজগুলোও পড়তে পারি নি। গতকাল থেকে ব্লগে একটু একটু উঁকি দিচ্ছি, আজ নেটে খবরের কাগজও পড়লাম। এই ক’দিনে অনেক কিছুই হয়ে গেছে!

(১)

৩০/০৬/২০১১ তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদে বিভক্তি ভোটে (পক্ষে ২৯১ ভোট, বিপক্ষে ১ ভোট) পাশ হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রচলিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হলো। মজার ব্যাপার হলো যাদের আন্দোলনের ফসল ছিলো এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তারাই এই ব্যবস্থা বাতিল করলো। বিরোধী দল ইতিমধ্যেই কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছে। দেশ কোনদিকে যাচ্ছে তা সময়ই বলে দিবে।

 রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ সংবিধানে বহাল রাখা এই সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তুর সাথে যদিও সাংঘর্ষিক, আমার কাছে মনে হয়েছে বিশাল এক ভোট ব্যাংককে লক্ষ্য করেই তা সংবিধানে রাখা হয়েছে। আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এটা ঠিক হলো কি না।
 খুব তাড়াতাড়ি সংশোধনী পাশ করা হলো। আমাদের দেশের আইন প্রনেতারা দেশের সংবিধান পরিবর্তন করলেন অথচ সংসদে প্রধান বিরোধী দলই ছিলো না, এমন কি এই পরিবর্তনে তাদের সমর্থনও ছিলো না। অনেকটা ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের মতো হয়ে গেলো। ফলাফল খুব একটা ভালো হবে না বলেই মনে হচ্ছে।
 প্রধান বিরোধী দল যদি সংসদে গিয়ে এর প্রতিবাদ করতো (যদিও তাদের কথা শোনা হতো না), তাহলে রাজপথে তাদের আন্দোলনটা আরো জোরালো ভিত্তি পেতো।
 নিদেনপক্ষে গনভোটের আয়োজন করা যেতো। তাহলে শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নয়, আমরা আমাদের আম জনতার অভিমতটা জানতে পারতাম।

(২)

এবার আসি টোকাইদের প্রসঙ্গে! বর্তমানে টোকাই শব্দটি খুব জনপ্রিয় মনে হচ্ছে, বিশেষ করে সরকারী আমলা আর মন্ত্রীদের কাছে। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি আহুত ৩ জুলাই-এর হরতালের উদ্দেশ্য আর একে সফল করার আহবান সম্বলিত অনেক লেখা পোস্ট করা হয়েছে।

 এই চুক্তি নিয়ে আমি আসলে তেমন কিছুই জানি না, হরতাল সফল করার জন্য প্রচারিত লিফলেটের তথ্যই আমার সম্বল (কৃতজ্ঞতাঃ হুনার মন্দ)।
 লিফলেটের কিছু অংশঃ

কী আছে চুক্তির কাঠামোতে (পিএসসি ২০০৮) তে যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী?

পিএসসি ২০০৮ এর অধীনে যে চুক্তি করা হয়েছে তা এখনও গোপন। তবে মুল দলিলের *১৫.৫.৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ যদি সমুদ্রের ১৭৫ মাইল দূরের গ্যাস ক্ষেত্র পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পরিবহণ ব্যবস্থা (পাইপলাইন) স্থাপন করে তাহলেই কেবল বাংলাদেশের পক্ষে পেট্রোবাংলা তার অংশের প্রফিট গ্যাস রাখার অধিকার প্রাপ্ত হবে, তবে তা কোনো মতেই মোট প্রাপ্ত গ্যাসের ২০% এর বেশী হবে না। উল্লেখ্য যে, পাইপলাইন তৈরি করতে বাংলাদেশের যে খরচ লাগবে তা কনকো ফিলিপসএর প্রাথমিক বিনিয়োগের তিনগুণ বেশি।

* ১৫.৫.১, ১৫.৫.৪, ১৫.৫.৫, ১৫.৬ ধারায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে কন্ট্রাক্টর ১৫.৫.২ ধারায় বর্ণিত হিসাব অনুসারে কন্ট্রাক্টর চুক্তিকৃত এলাকায় উৎপাদিত যেকোন পরিমাণ মার্কেটেবল গ্যাস বাংলাদেশের অংশসহ এলএনজি বা তরলায়িত করে রফতানির অধিকার পাবে।

* ১৬ নং ধারায় বলা আছে, পাইপ লাইন নির্মাণ করার অধিকার তাদের থাকবে। প্রাকৃতিক গ্যাস কেবলমাত্র নয়। পেট্রোলিয়াম এর বিষয়টিও আছে। তার মানে তারা ধরে নিচ্ছে একসময় নির্দিষ্ট ব্লকে তেল পাওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশকে তার প্রাপ্য বা ক্রীত গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দায়-দায়িত্ব কোম্পানির থাকবে, এরকম কোন নিশ্চয়তা নেই।

চুক্তিটি যেহেতু এখনো প্রকাশ হয়নি, ধরে নিচ্ছি উপরের তথ্যগুলো সঠিক। সেক্ষেত্রে এই আন্দোলনের জোরালো ভিত্তি আছে।

 এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি সরকারের কাছে আহবান করেছে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য চুক্তিটি প্রকাশ করতে। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।
 হয়তো অপ্রাসংঙ্গিক, কিন্তু একটা কথা বলতে চাই-আমরা সমালোচনা করতে খুব ভালোবাসি, বাস্তব অবস্থা না বুঝেই। যখন মেডিকেলের ছাত্র ছিলাম, স্যারদের অনেক সিদ্ধান্ত মন থেকে মানতে পারতাম না, বিদ্রোহী হয়ে উঠতাম। এখন তাঁদের জায়গায় এসে বুঝি তাঁরা কতটা সঠিক ছিলেন।
 যদি জাতীয় কমিটির দাবী সঠিক হয়, ৩ জুলাই হরতাল সফল হোক এই কামনা করছি (অনির্বার্য কারণবশত আমি ৩ জুলাই-এর হরতালকে সমর্থন দিচ্ছি না)।

(৩)

এবারের প্রসঙ্গটি একটু ভিন্ন ধরনের। প্রসঙ্গঃ তায়েফ আহমেদ। আমি তাকে চিনি না, জানি না। একটি পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম সে চুয়েটের শিবিরের সভাপতি ছিলো। তার কাছে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিলো, সে একটি উত্তর দিয়েছে। কারো পছন্দ হয়েছে, কারো পছন্দ হয়নি।

 আমি ব্যক্তিগতভাবে জামায়াত-শিবিরের ঘোর বিরো্ধী। মনে প্রানে চাই এই সংগঠনটি যেনো বাংলার মাটি থেকে সমূলে উৎপাটিত হয়।
 আমার মনে হয়, চতুরের নীতিমালায় একটি নতুন অধ্যায় যোগ করা উচিৎ-‘জামায়াত-শিবির রাজনীতির সাথে যেকোনো ভাবে জীবনের যেকোনো সময় সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির জন্য এই ব্লগে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ’ অথবা ‘বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সংস্কৃতি, মুক্তিসংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শকে আক্রমণ করে লেখা পোস্ট, মন্তব্য বা যে কোন কিছুর ব্যাপারে আমরা বড়োই অনমনীয়, ক্ষেত্রবিশেষে কঠোর। এমন নিদর্শন মডারেটরবৃন্দ যে কোন সময় অপসারণ করতে পারেন’- এখানেও জুড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে হয়তো এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব।
 ব্লগের বর্তমান নীতিমালা মেনে সদস্য হওয়া কাউকে শিবিরের সভাপতি ছিলো এই কারণে ব্লগ থেকে বের হয়ে যেতে বলাটা আমার কাছে ভদ্রোচিত আচরণ মনে হয়নি (আমার এই মন্তব্য যেনো ভুল অর্থে ধরা না হয়, সেজন্য সবাইকে আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করছি)।

(৪)

এই ক’দিনে আরেকটি উক্তি খুব তোলপাড় ফেলেছে-“ আমার চেয়ে বেশী দেশপ্রেমিক আর কেউ নেই”। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভালোর পসরা’ লেখাটা আমি প্রথম বিডি নিউজে পড়ি।

 তাঁর সব কথার সাথে আমি একমত নই, তাঁর খোঁচা মেরে কথা বলার টোন বা আক্রমনাত্মক ভঙ্গিও আমার খুব ভালো লাগে নি। আমি আশা করেছিলাম তিনি ব্যর্থতার কথাও লিখবেন। লেখার বিষয়বস্তুতে খুব হতাশ হয়েছি।
 আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেই খুব দেশপ্রেমিক ব্যক্তি, দেশকে নিয়ে তিনি আসলেই চিন্তা করেন। আমাদের মনে হয় তাঁর সদিচ্ছার ব্যাপারটাকে আমাদের মেনে নেওয়া উচিৎ, তাঁর এই কথাটাকে রম্য না বানিয়ে ফেলি।
 নিদেনপক্ষে জনগনের সাথে সরাসরি এই interaction-টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাঁকে তো আমরাই absolute majority-দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছি, তাই না?

(৫)

এবার জয়ের খবর। খুব খুব খুব ভালো লাগছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপের প্রাক বাছাই পর্বে বড় জয় পেয়েছে, তাও আবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। অভিনন্দন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সকল সদস্যকে। আশা করছি লাহোরে গিয়েও একই ফলাফল দেখাবে বাংলার বীর সেনানীরা।

খুব কষ্ট পেয়েছি উইম্বলডন থেকে আমার খুব প্রিয় খেলোয়াড় রজার ফেদেরারের বিদায়ে।

(৬)

সবশেষে দুইটি লেখার প্রতি আমার অসম্ভব ভালো লাগা জানিয়ে এই আবোল তাবোল লেখার এখানেই পরিসমাপ্তি ঘটাচ্ছি।

 অনীক ভাইয়ের লেখা ‘তেল চুপচুপে কথা’
 নাজমুল ভাইয়ের লেখা ‘যদি বারন কর তবে গাহিব না’

ভালো থাকুন সবাই, সবসময়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন