প্রাচীন যুগে যখন রাজায় রাজায় যুদ্ধ হতো তখন তীরন্দাজ বাহিনীর বিশাল ভূমিকা থাকতো। যুদ্ধের শুরুতে যখন একপক্ষের পদাতিক বাহিনী অন্য পক্ষে্র দিকে এগিয়ে আসতো তখন সর্বপ্রথম তীরন্দাজ বাহিনীই তীর নিক্ষেপ করে শত্রুপক্ষে্র কিছু পদাতিক কমিয়ে দিতো। একসাথে যখন অনেকগুলো তীর ছোঁড়া হতো, সেটা একটা দেখার মতো ব্যাপার ছিলো। এখনকার যুদ্ধে তীরন্দাজ বাহিনী নেই। তাই তীরবিদ্ধ হলে কেমন অনুভূতি হয়, এখন তা কেউ জানে না। তীরন্দাজীটা এখন খেলার মইয়দানেই আছে। ইদানীং আমাদের দেশে ঢাকা শহরে জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশে গেলে তীরন্দাজদের প্রশিক্ষন দেখা যায়। তীরন্দাজ নিয়ে এতো কথা বলার কারণ, আমি জানি তীরবিদ্ধ হলে কেমন লাগে। চপলা, চঞ্চলা হরিনীকে তীরবিদ্ধ করতে গিয়ে নিজেই যখন বড়ো ভাই হয়ে কুপোকাৎ হয়ে গেলাম, তখন ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের তীরের আঘাতগুলো সহ্য করতে না পেরে তিন-চার দিনের জন্য ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে গেলাম আমি, তাও আবার সমুদ্রের কাছে।
সমুদ্রের বিশাল লোনা জলরাশিতে অবগাহিত হয়ে যখমটাকে নিরাময় করে যখন ক্যাম্পাসে ফিরে এলাম, ক্যাম্পাসে তখন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। এই যুদ্ধ রাজায় রাজায় না, এইযুদ্ধ ব্যাট আর বলের। আন্তঃবর্ষ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এবারো ক্যাপ্টেন নির্বাচন নিয়ে সমস্যা দেখা দিলো। আমাদের ফুটবলের ক্যাপ্টেন ছিলো ফয়েজ। কিন্তু ক্রিকেটের জন্য নির্বাচনে দাঁড়ালো সেই ববি আর পাশা। দুই জনেই খুব ভাল খেলে, দুই জনেরই ক্রিকেট জ্ঞান অসাধারণ। ববির বাড়ি ছিলো চট্টগ্রামে। সে প্রায়ই বলতো, ‘আমি নান্নু (মিনহাজুল আবেদীন নান্নু) ভাইয়ের সাথে ক্রিকেট খেলেছি।’ ওর এই কথাই ওর জন্য বুমেরাং হলো। গোপন ভোটাভুটিতে পাশা ক্যাপ্টেন হয়ে গেলো। কিন্তু আমরা যখন প্রাকটিসে গেলাম, দেখা গেলো ববি আর ওর ভোটাররা মাঠে গেলো না। দুই দিন পর আবার রাতের বেলায় আমাদের জরুরী সভা। সেখানে ববি আবেগাপ্লুত হয়ে রাজনীতিবিদদের মতো এক জ্বালাময়ী ভাষন দিয়ে বিরোধীদলের মতো আগাম মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবী করলো। তানভীর নামে আমাদের এক চরমপন্থী বন্ধু ছিলো। সে সরকারী দলের মতো বলে ফেললো, ‘ববির বিরুদ্ধে যদি একটা কলা গাছও নির্বাচনে দাঁড়ায়, তাহলে কলা গাছ জিতবে।’ কিন্তু দলের স্বার্থে, ব্যাচের স্বার্থে পাশা সোনিয়া গান্ধীর মতো ক্যাপ্টেন্সী থেকে সরে দাঁড়ায়। পরদিন থেকে ববির ক্যাপ্টেন্সীতেই আমরা প্রাকটিস শুরু করি।
এর আগে মোট চারবার আন্তঃবর্ষ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়েছিলো। প্রতিবারই জে-৪ ব্যাচ কোনো রকম স্থূল কারচুপি বা পুকুর চুরি ছাড়াই অপরাজিতভাবে চ্যাম্পিয়ান হয়েছিলো। কিন্তু এই বছর জে-৪ ব্যাচ না থাকাতে বাকী সবগুলো ব্যাচই শিরোপার দাবীদার ছিলো। প্রাকটিসে দেখা গেলো ব্যাটিং বোলিং-এর চেয়ে আমি ফিল্ডিং-এ জন্টি রোডস। মনোয়ার আর ফয়েজ বলতো বাস্তব জীবনে যেহেতু কোনো ক্যাচই ধরতে পারিনি, তাই মাঠেও একই দশা হবে। তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম একাদশে আমি থাকবোই। আমি বোধহয় ভুলে গিয়েছিলাম দলের ক্যাপ্টেন ববি। তাই খেলার দিন দেখা গেলো আমি দ্বাদশ খেলোয়াড়। মাঠ ভর্তি সুন্দরী ললনা, বিশেষ করে সেই চপলা হরিনীর সামনে দিয়ে যখন মাঠে তোয়ালে আর পানির বোতল নিয়ে দৌড় দিতাম, মনে হতো কেনো যে ব্রিটিশরা এই খেলা আমাদের দেশে এনেছে!
প্রথম দুই খেলায় আমি মাঠে নামার সুযোগই পাইনি। এর মধ্যে একটিতে আমরা হেরে যাই, আরেকটিতে আমরা জিতি। তৃ্তীয় খেলায় আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডিং করছিলাম। আমাদের একজন একটু আহত হলে আমি প্রতিযোগিতায় প্রথম বারের মতো মাঠে নামি। আমার জন্টি রোডস হয়ে উঠাতে সে ম্যাচ আমরা জিতে যাই। শেষ ম্যাচটাতে জিতলেই আমরা ফাইনালে। আগের ম্যাচের দুর্দান্ত ফিল্ডিং-এর জন্য একাদশে ঢুকে গেলাম। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং লাইন আপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের মতো মড়ক লেগে গেলো। পচিঁশ ওভারের ম্যাচে পনের ওভারের মধ্যেই চুয়াত্তর রানে নয়বার উইকেট ভূপতিত হয়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি মাঠে নামি। শেষ জুটিতে আমার সাথে ছিলো নেপালী নিরাজন, ও মোটামুটি ব্যাট চালাতে জানতো। আমার কাছে এসে নিরাজন আমাকে স্ট্যাম্পের সামনে ব্যাট নিয়ে দাঁড়াতে বললো। ওর এই কথাটিকে আমি আক্ষরিক অর্থেই নিলাম। ব্যাট আর তুলি না, এমনকি লোপ্পা বল দিলেও ঠায় দাঁড়ায়ে থাকি। অস্ট্রেলিয়া তখনো স্লেজিংটাকে জনপ্রিয় না করলেও উইকেটের পিছন থেকে উইকেটকিপারের আর আশেপাশের ফিল্ডারদের মুখ নিসৃত মধুময় বানীও যখন আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারলো না, নিরাজনও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে একবার আমার কাছে এসে জানতে চাইলো আমার কানে কোনো সমস্যা আছে কি না বা কানে তুলা দিয়ে মাঠে নেমেছি কি না। জবাবে সে শুধু আমার বত্রিশটা দাঁতই দেখতে পেয়েছিলো। পনের ওভারে নয় উইকেটে চুয়াত্তর থেকে শুরু করে আমরা যখন মাঠ থেকে বেরিয়ে আসলাম তখন দলের রান নয় উইকেটে একশত চব্বিশ। আমার নামের পাশে রান সংখ্যা শূন্য আর বলের সংখ্যা বত্রিশ! খেলাতে আমরা হেরে গিয়েছিলাম, তারপরও খেলা শেষে আমার প্রশংসায় আমার ব্যাচ পঞ্চমুখ ছিলো। কিন্তু আমাদের সবার চোখ আটকে গেলো অন্য জায়গায়। মাঠের পাশে প্যান্ডেলের নিচে দেখতে পেলাম কয়েকটা পরীর বোবা চাহনি, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠা। জলি, পুজা, স্নিগ্ধাসহ আমাদের ব্যাচের মেয়েদের কান্না দেখে নিজেদের চোখও যে কখন আদ্র হয়ে উঠলো বুঝতেই পারলাম না।
ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আগেই আমি ফয়েজের সাথে কিঞ্চিত মনোমালিন্যের জন্য রুম পরিবর্তন করে ফেলেছিলাম। আমি যে রুমে গেলাম সেখানকার তিন রুমমেটই আমার সিনিয়র, জে-৬ ব্যাচের। মামুন ভাইয়া ছিলেন শান্ত স্বভাবের, একটু আবেগী এবং আবেগটা সহজেই প্রকাশ পেতো। উনি পড়াশোনা করতেন জোরে জোরে উচ্চারন করে, আমি এজন্য উনাকে খুব খেপাতাম। মামুন ভাইয়া যখন ছুটিতে উনার বাড়ি চট্টগ্রামে যেতেন, আমরা জানতাম, আসার সময় কিছু না কিছু নিয়ে আসবেন। সোহাগ ভাইয়ার আবার সাতক্ষী্রায় একটা সিনেমা হল ছিলো। উনার কাছ থেকে আমরা প্রায়ই সিনেমা হলের রমরমা কাহিনী শুনতাম। সোহাগ ভাইয়াও আবেগী ছিলেন, কিন্তু উনি সেটা বুঝতে দিতেন না। আর পারভেজ ভাইয়ার সাথে আমার মিল ছিলো দুই জায়গায়। উনার বাড়ি নোয়াখালী, আমার বাড়িও নোয়াখালী; উনি ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলেন, আমিও ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলাম। আর অমিলটা ছিলো আমি তখনও ব্যাচেলর আর উনি আমাদের ব্যাচেরই দুলাভাই হয়ে গেলেন! না, না, বিয়ে হয়নি, আমাদের ব্যাচের লাকীর সাথে মন দেওয়া নেওয়া শুরু করেছেন মাত্র!
এই রকম অবস্থার মধ্যেই এক সময় আবিষ্কার করলাম মজার দিনগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। সামনে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা চলে এসেছে। আমাদের ব্যাচের আমরা সবাই আস্তে আস্তে মেডিকেলের খটমটে বইয়ের রাজ্যে হারিয়ে যেতে লাগলাম। এর মধ্যেও কোনো একটু অবসরে যখন আনমনা হয়ে যেতাম, চোখের সামনে ভেসে উঠতো সদ্য প্রকাশিত কলেজ ম্যাগাজিনে চঞ্চলা, চপলা হরিনীর লেখা কবিতাটি-
‘তুমি রোদেলা দুপুরে সূর্য,
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা।
তুমি কুয়াশায় ঢাকা চারিধার,
তুমি ঝিঁ ঝিঁ ডাকা এক রাত্রি।
তুমি নিঝুম রাতের স্বপ্ন,
তুমি প্রেমিক মনের জ্যোৎস্না।
তুমি কিশোরীর চাপা কষ্ট,
শুধু বয়ে চলা এক ঝর্ণা
তুমি প্রেমিকার নীল চিঠি,
তুমি কফি হাউজের আড্ডা।
তুমি সুখ, দুঃখ, কষ্ট,
তুমি বুকে জমে থাকা কান্না।
তুমি এলোমেলো পথ চলা,
শুধু ভালোলাগা, ভালোবাসা।’ –
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা।
তুমি কুয়াশায় ঢাকা চারিধার,
তুমি ঝিঁ ঝিঁ ডাকা এক রাত্রি।
তুমি নিঝুম রাতের স্বপ্ন,
তুমি প্রেমিক মনের জ্যোৎস্না।
তুমি কিশোরীর চাপা কষ্ট,
শুধু বয়ে চলা এক ঝর্ণা
তুমি প্রেমিকার নীল চিঠি,
তুমি কফি হাউজের আড্ডা।
তুমি সুখ, দুঃখ, কষ্ট,
তুমি বুকে জমে থাকা কান্না।
তুমি এলোমেলো পথ চলা,
শুধু ভালোলাগা, ভালোবাসা।’ –
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমি আবার বইয়ের দিকে চোখ ফেরাতাম!
হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেলো। খুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনসাদিয়া
সাদিয়া, অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে। মাঝে মাঝে ভাবি এই লেখাগুলো লিখতে গিয়ে আবার মানহানির মামলায় জড়ায়ে যাই কী না!
উত্তরমুছুনখুব ভালো থাকো।
তোমার লেখাগুলো খুবি সুন্দর। চপলা হরিনীটি কে? Carry on.
উত্তরমুছুনতারজিয়া, তুমি যে! ভীষন খুশি হয়েছি তোমাকে দেখে। কেমন আছো তুমি আর তোমার পরিবার? গল্প, গল্পই, তাই না? বাস্তবের সাথে মিল খুঁজতে না যাওয়াই ভালো।
উত্তরমুছুনখুব খুব খুব ভালো থাকো।
নিয়াজ, তুমি একবার forearm-এ BP দেখেছিলে। তোমার মনে থাকলে ... ঘটনাটা নিয়ে লিখো গল্প আকারে। আর তোমার এতো সুন্দর humour-এ ভর্তি লেখাগুলো পড়ে এখন মনে হচ্ছে ... আসলেই তোমার প্রতিভা আমরা তখন বুঝিনি। অন্ততপক্ষে আমি তো জানতাম নাতুমি এতো ভালো লিখো। অর্চির... এডিটোরিয়াল তোমার করা উচিত ছিলো......আমি একেবারেই ওটার অযোগ্য।
উত্তরমুছুনভালো থেকো। আর চঞ্চলা চপলা হরিনীটি কে ... আমি সেটা জানি... নবীন বরণ প্রোগ্রামের কথা মনে পড়ছে। আমরা তখন নিউ... ২য় বর্ষের স্টুডেন্ট।
সাদিয়া
Thanks for this valuable photo.
উত্তরমুছুনএই ছবিতে আমার husband-কে দেখতে পাচ্ছি।
ভাইয়া,খুবই ভালো লাগলো !
উত্তরমুছুনঅসম্ভব সুন্দর হয়েছে !
আমি নতুন একটা পোস্ট দিয়েছি !
আপনার মূল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম !
অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে, অনিন্দ্য। তোমা্র লেখাও কিন্তু আমার কাছে ভালো লেগেছে, সাবলীল লেখা। খুব ভালো থাকো।
উত্তরমুছুনসাদিয়া, ছবিটার ভালো প্রিন্টটা আমার কাছে নেই। এজন্য একটু ঝাপসা হয়েছে।
উত্তরমুছুনসাদিয়া, ঘটনাটা আমারো মনে আছে। যতদূর মনে পড়ে, এটা ফোর্থ ইয়ারের ঘটনা। আমি এখনো ফার্স্ট প্রফ দেই নি!
উত্তরমুছুনতোমার লেখা পড়ে একটু লজ্জাই পাচ্ছি।তুমিও তো খুব সুন্দর লিখতে পারো। দ্যুতিতে তোমার লেখা 'আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রানে' পড়ে খুব ভালো লেগেছিলো। ব্লগ লেখা শুরু করে দাও।
চঞ্চলা, চপলা হরিনীর হদিশ বের করার কোনই প্রয়োজন নেই, তবে নবীন বরণের কথা বলাতে মনে হচ্ছে......(অট্টহাসির ইমো হবে)
ভালো থেকো তুমি আর শিবলী।
আপনার প্রতিটি পর্বই আমি নিয়মিত পড়ি। কিন্তু আগের মত আর মন্তব্য করা হয় না।
উত্তরমুছুনকেমন আছেন আপনি........??
ভাল লাগল আপনার মেডিক্যাল লাইফের এই পর্বটা................
ভাল থাকুন...................পরবতী পবের অপেক্ষায় রইলাম.............
হাই তুসিন, কেমন আছো তুমি? অনেকদিন পর তোমাকে দেখে ভালোই লাগলো। খুব খুব খুব ভালো থেকো।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ নিয়াজ, তোর দুঃখিত হবার জন্য। টেকনিক্যাল কারণে অভ্র ডাউনলোড করতে না পারার জন্য আমিও দুঃখিত। নিয়াজ, তুই যদি চাস, এই লেখা অনুবাদ করতে পারিস, আমার কোনো আপত্তি নেই।
উত্তরমুছুনক্রিকেট সম্পর্কে আমার অনেক কিছু বলার আছে।
পার্ট-১: ক্যাপ্টেন্সী নিয়ে
আমাদের ব্যাচে সত্যি বলতে ফয়েজ, পাশা, ববি, ভাস্কর ছাড়া আর কেউ খেলতে পারতো না। ফয়েজ, পাশা হলো আফ্রিদি/শেবাগ টাইপের আর ববি ভাস্কর হলো দ্রাবিড়/ইনজামাম টাইপের। এই ৪ জন আবার আমাদের মেইন বোলারও বটে।তাই ক্যাপ্টেন হলে এই ৪ জনের বাইরে কেউ হবে না, এটা সবাই জানতো। তখন ববি বললো যে, ফুটবলের ক্যাপ্টেন ক্রিকেটে দাঁড়াতে পারবে না। এই প্রসঙ্গে বলতে হয়, ফুটবলে ফয়েজ ২২-৪-২ ব্যাবধানে নির্বাচিত হয়ে ছিলো। ববি আর আল-আমীনের মধ্যে কে যে ৪ আর ২ টা ভোট পেয়েছিলো মনে নেই, তবে এই টুকু মনে আছে ভোটের পর ববি বলেছিলো সে নিজে ফয়েজকে ভোট দিয়েছিলো!
তাই ববি যখন এই কথা বললো, তখন সবাই বুঝলো যে, সে ক্যাপ্টেন হবার জন্য এই চাল দিছে। তখন ফয়েজ জানতে চাইলো, ক্রিকেট ক্যাপ্টেন কী পরে ফুটবলে দাঁড়াবে? তখন ববি বললো, দাঁড়াবে না। মানে একরকম Gentle-man agreemant. ফয়েজ তাই আর ক্যাপ্টেন্সিতে দাঁড়ালো না। ভোটে পাশা ১৪-১০ ব্যাবধানে নির্বাচিত হলো।
আফসোসের বিষয় হলো আমাদের ১ সপ্তাহের ক্রিকেটের ক্যাপ্টেন পাশা যখন ফুটবল ক্যাপ্টেন্সিতে দাঁড়ালো তখন এই এগ্রিমেন্ট নিয়ে কেউ কিছু বললো না। আমি আর নিয়াজ ইন্টার্ণ হোস্টেলে ছিলাম বলে মিটিং-এর প্রথম দিকে ছিলাম না, লাস্টের দিকে আসলাম। যেই শুনলাম এই ঘটনা, তখন ফয়েজকে বললাম, ‘এখান থেকে চলে আয়, এইসব বন্ধুদের মাঝে থাকার কোনো দরকার নেই’।
পার্ট-২: ববির ক্যাপ্টেন্সি
উত্তরমুছুনবিতর্কিতভাবে যখন ববি ক্যাপ্টেন হলো তখন আমরা হতাশ হয়ে গেলাম। এর মধ্যে প্রচার হয়ে গেলো পাশা না কী নিজের ইচ্ছায় দাড়ায় নি, ফয়েজদের ইনফ্লুয়েন্সে সে দাঁড়িয়েছে (মানে পাশা হলো শিশু যে অন্যের কথায় ইনফ্লুয়েন্স হয়)। তখন বুঝলাম যে, ফয়েজের কিছু না হলেও আমি, নিয়াজ, রিয়াদ-আমাদের একাদশে কোনো চান্স নেই। প্রথম দিকে যখন পাশা ক্যাপ্টেন ছিলো, তখন রিয়াদ প্রাকটিসে যেতো। যখন ববি ক্যাপ্টেন হলো, তখন রিয়াদকে ডাকলো না, দেখলাম যে প্রাকটিসে আমরা কোনো চান্সই পেলাম না। নিয়াজকে প্রতিদিন ক্যাচ প্রাকটিস করাচ্ছে!ব্যাটিং প্রাকটিসে যখন আমি গেলাম, তখন দেখলাম সবাই চলে যাচ্ছে। ফুটবলে নিয়মিত প্রাকটিস করেও একাদশে চান্স পেলাম না, সেখানে প্রাকটিস ছাড়া যে ক্রিকেটের একাদশে চান্স পাবো না বুঝে ফেললাম।
প্রথম ম্যাচে আমি আর নিয়াজ এক্সট্রা প্লেয়ার, রিয়াদ বাদ। আমাদের ক্যাপ্টেন বললো যে সবাইকে ক্রিকেট ড্রেস পরে আসতে হবে। তখন নিয়াজ ছাড়া আর কেউ পরলো না। নিয়াজ দ্বাদশ খেলোয়াড়। ম্যাচ হারার পর আকশে উড়তে থাকা সবাই মাটিতে নামলো, বুঝা গেলো কার দৌড় কতদূর! ববি তখন পাশার মধ্যস্থতায় রিয়াদকে নেক্সট গেম খেলতো বললো। ২য় ম্যাচে আমরা জিতে গেলাম। তবে একটা ব্যাপার নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি, সেটা হলো, রিয়াদ যখন উইকেট পেলো, তখন ক্যাপ্টেন ববি বললো যে, ব্যাটসম্যান রিয়াদের বাজে বলে আউট হয়েছে। নিয়াজ আবারো দ্বাদশ খেলোয়াড়।
তৃ্তীয় ম্যাচ। ক্যাপ্টেন ববি বললো যে ড্রেস না পরলে কেউ খেলায় চান্স পাবে না। ১২ জনের মধ্যে টেলি, নিয়াজ ছিলো। টেলি আগের দুই ম্যাচে খারাপ করায় বুঝলো চান্স পাবে না। তাই খেলার দিন টেলি ক্রিকেট ড্রেস না পরে, অফ-হোয়াইট ড্রেস পরলো আর বললো সে শিউর যে চান্স পাবে না। এটা তার একটা প্রতিবাদ ছিলো ক্যাপ্টেনের প্রতি। আমি বুঝলাম যে, নিয়াজ এবার চান্স পাবে আর নিয়াজকে উৎসাহ দিচ্ছি। ববি দেখলো যে, টেলি ড্রেস পরে আসে নি, কিচ্ছু বললো না। তারপর যখন একাদশে ববি টেলির নাম বললো, তখন আমি, টেলি আর নিয়াজ অবাক হয়ে গেলাম। এই নির্লজ্জের ঘটনায় এতই অবাক হলাম যে, টেলি সঙ্গে সঙ্গে বললো, ‘নিয়াজ, ক্ষমা করে দিস, আমি যদি জানতাম যে ফয়েজের সাথে থাকার জন্য তুই চান্স পাবি না, তাহলে ড্রেস ঠিকমতো পরে আসতাম’।
চতুর্থ ম্যাচে নিয়াজ চান্স পেলো। কারণ ২টা ম্যাচ জিতে যাওয়ায় সবাই রিল্যাক্স ছিলো, বেশ কয়েকজনকে ফাইনালের জন্য রেস্ট দেওয়া হলো, ফাইনাল নিশ্চিত জেনে! কেউ কেউ খাসির অর্ডারও দিয়ে ফেললো। প্রতিপক্ষ জে-৬, যাদের এই ম্যাচ জিততে হবে, আবার রানরেটও বাড়াতে হবে। আর আমাদের রানরেট ছিলো ভালো, ন্যূনতম ব্যাবধানে হারলেও ফাইনাল নিশ্চিত। ম্যাচে আমরা বাজে ভাবে হারলাম আর আমাদের মেয়েরা কাঁদতে লাগলো।
আমারও মেজাজ খারাপ, আর কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, ‘ফাইনাল বাদ দিয়ে যদি খাসি নিয়ে চিন্তা করে, তাহলে তো এই অবস্থা হবে’।
মনো,
উত্তরমুছুনপ্রথমেই কমেন্ট বাংলাতে রুপান্তরিত করতে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
Gentle-man agreemant- নিয়ে আমার একটা কথাই বলার আছে, মানুষ বুঝে এগ্রিমেন্ট করা উচিত ছিলো।
আর ভালো থাকিস।
মনো,
উত্তরমুছুননদীর জল অনেকদূর গড়িয়ে গেছে। শুধু এটুকু বলতে পারি, কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমরা ফাইনালে উঠতে পারি নি, ক্যাপ্টেন হিসেবে ববির উপরেই এর দায়ভার পড়ে। পাশা কার চাপে পড়ে নির্বাচনে দাড়িয়েছে বা কার চাপে ক্যাপ্টেন্সি ছেড়ে দিয়েছে, সেটা পাশাই জানে, আমরা শুধু অনুমানই করতে পারি। Gentle-man agreemant-এখানেই হয়েছে। ক্রিকেটের ক্যাপ্টেন্সি ছেড়ে দিয়ে ফুটবলের ক্যাপ্টেন হওয়া, তাই না? তাই বলা চলে, Gentle-man agreemant-এ ফয়েজের কোনো ভূমিকাই নেই!!!
ভালো থাকিস। ভালো কথা, একাদশে চান্স পাওয়া নিয়ে , না নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নেই। কারণ, বাংলাদেশ জাতীয় টিমেও এখন গ্রুপিং প্রাধন্য পাচ্ছে।
Sorry Niaz, tor kotha tic bujlam na! ami ai tuku bolbo je Pashar jaugai Foyez hole procondo biroditar mokhe porto. ar pashar captancy charar bisoye amake sotti kotha bolte hocce.
উত্তরমুছুনGhotona mitta kina tui bolish.
1) pasha captain howar por amra 1st prectice jai, jekhane amio giecilam. Boby prectice giecilo( ja tui bhule gasis) songe cilo 'shi','ru','tu' soho aro kicu tar somortok.
2) practice jebhabei hok dekha gelo boby instruction dewa suru korlo. boby bibinno cricketio term bole prectice koracce,onekta coach-er moto. pasha soho amader kunu apotti cilo na.
3) somoissa holo onnokhane. protome amra na bujleo pore bujlam ata cilo purbo-porikolpito. dekha galo practice 'shi','al','tu'(o precticer bahire theke kotha bolcilo) boby-ke tikkari korcilo(jeta campus jibone akmatro prokaisso ghotona). oder comment-e pasha khub ossosti fill korcilo.
4) saidin rathe pasha meeting daklo. ami jodi mittha na boli tahole pasha bolecilo je se captain,hoyto se onek kicu jane na. tai se chai prectice-e boby-ke kew jeno kunu titkari na kore, practice boby-r kothai or kotha. o boby-r help chailo, boby chup-chap matha naralo. kintu songe songe protibad janalo 'shi','al' soho aro koyek jon. bises kore 'shi' bollo pashar jodi na jane tahole o jeno captaincy chere dai,boby captain hok.captain-ke sob kicu(!) jante hobe,ora sudu captain-er kotha sunbe ar karo na. tarpor chilla-chilli suru hoye galo, r pasha matha gorom kore bollo o captaincy korbe na.
pashar captaincy charar bepare asolei amader kunu kicu bolar cilo na. karon se sotti kotha bolecilo, kintu se nugra chale pore captaincy chere dilo. karon sobai jane je pasha matha gorom hoye mejaj harie fale.
ai jaighai "Sonia ghandi" hole captaincy-tei daraten na. ar ai rokom poristitite porle uni ar ji hok podotaig korar aghe jara somorton diecilo tader kace khoma chaiten.