প্রতিবছর একবার, খুব বেশি হলে দুইবার একুশের বইমেলায় যাই। আর এবার বইমেলা শুরু হবার আগের দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিদিন গিয়েছি।
মনের টানে, প্রাণের টানে, সরলরেখা – বক্ররেখার টানে।
তিন তারিখ রাতেই অন্যপ্রকাশের কমল ভাইয়া আমাকে ফোন করে বলেছিলো চার তারিখ
বিকালে সময় টিভি সরলরেখা – বক্ররেখার লেখক-লেখিকাদের একটি সাক্ষাতকার নিতে চাচ্ছে।
কিন্তু ততক্ষণে ফয়সাল আর মানিক চট্টগ্রাম আর সিরাজগঞ্জে পৌঁছে গেছে, নাজমুল ভাইয়া
খুলনায় নিজের বাসায় গিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছেন আর জুলিয়ান ভাই ঢাকার বাইরে চলে
গেছেন। তাই শুধুমাত্র পলাশ, উদরাজী ভাইয়া আর পাপতাড়ুয়া সোহেলকে খবর দিতে পারলাম,
এমনকি অপাংক্তেয় আপুকেও জানাতে পারি নি।
আজ মেলা প্রাঙ্গনে গিয়েছিলাম সাড়ে চারটার দিকে, ইতোমধ্যে অন্যপ্রকাশ থেকে
দুইবার ফোন দিয়ে জানালো সময় টিভি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমি মেলায় গিয়ে দেখি,
তখনো কেউ আসেনি। পলাশকে ফোন দিলাম, মাত্র দিবানিদ্রা থেকে উঠলো। উদরাজী ভাইয়া তখনো
অফিস থেকে বের হোন নি, আমাকে জিজ্ঞেস করলো তাঁর আসার প্রয়োজন আছে কি না! আর সোহেল
সেই সময় বনানীর যানজটে! আমি সময় টিভির জৈষ্ঠ্য প্রযোজক কমল সিদ্দিক ভাইয়ের দিকে
তাকিয়ে খুব কষ্টের এক হাসি দিলাম, উনি বললেন আরো আধা ঘন্টা অপেক্ষা করা যেতে পারে।
কিছুক্ষণ পর পলাশের চেহারা দেখা গেলো। আরো বিশ মিনিট অপেক্ষার পর উদরাজী
ভাইয়াকে হেলে দুলে আসতে দেখা গেলো, কিন্তু সোহেলের কোন দেখা নেই! অপেক্ষা করতে
করতে আমরা যখন সবাই ক্লান্ত, ঠিক হলো সোহেলের কপালে নেই, কী আর করা!
লেখককুঞ্জের সামনে আমাদের সাথে আলাপন শুরু হলো। উদরাজী ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করা
হলো সরলরেখার বক্ররেখার শুরু কিভাবে হলো। পলাশ এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে বললো। আর
আমাকে বলতে হলো নতুন লেখক হিসেবে বই বের
করতে কি কি সমস্যা পোহাতে হয়েছে এবং এর প্রতিকারের উপায় কি। আমাদের আলাপন যখন শেষ,
তখন তাকিয়ে দেখি সোহেল এসে গেছে। ততক্ষণে ক্যামেরা অফ! বেচারা সোহেল!
মজার ব্যাপার ঘটলো এরপরে। আমাদের সাক্ষাতকার দেওয়া দেখে লেখককুঞ্জ থেকে এক
লেখক বের হয়ে কমল সিদ্দিক ভাইয়ের হাতে তার লেখা বইয়ের একটি কপি দিয়ে তার একটি
সাক্ষাতকার নিতে বললো। খুব মজা লাগছিলো টিভি ক্রুদের বিব্রতকর অবস্থা দেখে! লেখক
বেচারা শেষ পর্যন্ত সাক্ষাতকার দিতেই পারলো না!
এরপর বাইরে গিয়ে চা খেতে খেতে গীতিকার শেখ রানা ভাইয়ার (ব্লগার নস্টালজিক)
সাথে দেখা হলো। বেশ কিছুক্ষণ তার সাথে আড্ডা মেরে মেলায় ঢুকে প্রথমেই গেলাম জাতীয়
গ্রন্থ প্রকাশনে। সেখানে ব্লগার রেজওয়ান তানিমকে পেয়ে গেলাম, নেওয়া হলো তার
‘মৌনমুখর বেলায়’ বইটি। সেখানে আরো দেখা হলো ব্লগার ফালতু (সীমান্ত পথিক) এবং
ফেরদৌস হাসানের সাথে। লিটলম্যাগ চত্বরে হলো অসাধারণ আড্ডা।
কিছুক্ষণ পর তাদের কাছ হতে বিদায় নিয়ে একা একা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে আমার
নাম ধরে কেউ একজন ডাক দেওয়াতে সম্বিত ফিরে পেলাম। তাকিয়ে দেখি আমি জাগৃতি
প্রকাশনীর সামনে দাঁড়িয়ে, আমাকে ভিতর থেকে ডাকছে জলি আপু, প্রকাশকের স্ত্রী,
আমাদের মেডিকেলের বড়ো আপু। কথা বলতে বলতে চিন্তা করছিলাম এখান থেকে কোন বই কেনা
যায়। হঠাৎই চোখের সামনে দেখতে পেলাম আব্দুর রাজ্জাক শিপন ভাইয়ার গতবছরের উপন্যাস
‘চন্দ্রাবতীর চোখে কাজল রং’, নিয়ে নিতে ভুল হলো না।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে আটটা বেজে গেছে। আমার সাথে পাপতাড়ুয়ার যাওয়ার কথা,
ওকে ফোন দিতে গিয়ে দেখি মোবাইলের চার্জ শেষ, কিছুক্ষণ মেলার এ প্রান্তে ও প্রান্তে
ওকে খুঁজে বেড়ালাম, কিন্তু পেলাম না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন